Top 6 Must-Visit Places in Asansol, West Bengal
- Blog
Bengal_tourism
- 19/12/2024
- 0
- 361
- 12 minutes read
আসানসোলের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সংমিশ্রণ পর্যটকদের জন্য অগাধ সম্ভাবনা নিয়ে আসে। নিম্নে শহরের ৬টি প্রধান আকর্ষণের বাংলা বর্ণনা ও ভ্রমণ–পরামর্শ দেয়া হল।
1. Susanta Ray Wax Museum and Seesh Mahal – A Unique Experience
কেন বিশেষ?
বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব: ভারতের প্রমুখ রাজনৈতিক, সাহিত্যিক ও আন্তর্জাতিক সুপরিচিত তারকার—মোহনদাস গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেলসন ম্যান্ডেলা সহ অসংখ্য লাইফসাইজ মোমের মূর্তি এখানে রয়েছে।
শিশ Mahal: অপটিক্যাল ইলিউশন ও অসাধারণ চিত্র প্রতিফলনে পরিবেশ করতে পারে আপনাকে বিস্ময়ে।
কি দেখবেন?
প্রতিটি মোমের মূর্তি প্রায় মানুষসুলভ নকশা, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
শীশের এই কক্ষ আপনার দৃষ্টি–কাঠিন্যের পরও প্রেরণা দেবে আলো-আয়নার বিবর্তনে।
ভ্রমণ–পরামর্শ
স্মরণিকা দোকান: মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে ছোট্ট শপ আছে, যেখানে চশমা, পোস্টকার্ড, ছোট মোমের মূর্তি কিনতে পারেন।
ভিড় কম সময়: সকাল ১০টা–১১টার মধ্যে কিংবা বিকাল ৩টা–৪টার মধ্যে যাওয়া ভালো, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় এড়ানো যায়।
ভাড়া ও সময়: এন্ট্রি ফি প্রায় ₹৫০–₹১০০। দর্শনকাল ১ ঘণ্টা থেকে ১.৫ ঘণ্টা পর্যাপ্ত।
2. Biharinath Hill – A Perfect Picnic Spot
কেন বিশেষ?
ছোটানাগপুর এর প্রান্তভাগ: প্রচুর সবুজ–ভারী পাথুরে ভাঁজ ও পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য যা আপনার ট্রেকিং রোমাঞ্চকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
শিবমন্দিরের পীঠস্থান: দর্শনীয় বিহরিনাথ মন্দির, যা প্রাচীনকাল থেকে শিবভক্তদের আকর্ষণ করে।
কি দেখবেন?
ট্রেকিং রুট: পাহাড়ের বিভিন্ন দিক দিয়ে ছোট গুহা, ঝরণা এবং বাসরাশল।
পিকনিক স্পট: বেশ কিছু বড় পাথরের টেবিল–বেঞ্চ, যেখানে বসে তৃপ্তিদায়ক নৈসর্গিক পরিবেশে খাবার উপভোগ করা যায়।
শিল্প–পল্লব: পাহাড়ের বুক চিরে বেড়ে থাকা দারিদ্র গোলাপ, বহুধা পাখিপ্রীতি দেখা যায়।
ভ্রমণ–পরামর্শ
সঠিক সময়: শীতে (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) তাপমাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যজনক, বর্ষা বাদেই ভ্রমণ করুন যাতে ঝড়–ঝঞ্ঝা না হয়।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা:
আরামদায়ক জুতো, ব্যাকপ্যাক, টর্চলাইট, পর্যাপ্ত পানি ও ছোটখাটো স্ন্যাক্স।
প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী (ফার্স্ট এইড), বিশেষ করে স্ক্র্যাচ বা মোচড়ের বিপদে কাজে লাগে।
ফটোগ্রাফি: ভোরের প্রথম আলো বা সন্ধ্যার শেষ বেলায় ছবি তুললে সবচেয়ে সুন্দর আলো–ছায়া থাকবে।
3. Nehru Park – A Serene Environment
কেন বিশেষ?
শান্তির নীড়: ২৫ একর এলাকা জুড়ে সাজানো ল্যান্ডস্কেপ, পা ধরে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট জলাশয়, আর শীতল ছায়া–ঝরা গাছের মেলবন্ধন।
বিনোদনময় উপাদান: বড় প্রযুক্তিসম্পন্ন মিউজিক্যাল ফোয়ারা, শিশুদের খেলার জায়গা ও হাঁটার পথ।
কি দেখবেন?
লেক সাইড: খাওয়া–দাওয়া লুপ্তপ্রায় প্রজাতির জলজ প্রাণীর দেখা।
মডেল বোট: মাঝে মাঝে ছোট্ট রেডিও-কন্ট্রোল বোট ঘোরাতে দেয়া হয়।
বাগান আর ফুল: সিজনাল ফুলের বাগান, সুবাসে মোহিত হয়ে ওঠে মন।
ভ্রমণ–পরামর্শ
পিকনিক করণ: বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে চেয়ার-বেড ছেড়ে বেঞ্চে বসে সাধারণ খাবার–নাশতা এনে শীতল পরিবেশে ভোজন।
সময় নির্বাচন:
সকাল ৬টা–৯টা বা বিকাল ৪টা–৭টার মধ্যে ভিড় কম থাকে এবং পরিবেশ থাকে কঠিন ভ্রমণের মত মনোরম।
সন্ধ্যার পর মিউজিক্যাল ফোয়ারা দেখতে পারেন (যদি মেলা বা সাংস্কৃতিক রাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে)।
4. Maa Kalyaneswari Temple – The Goddess’s Abode
কেন বিশেষ?
আধ্যাত্মিক কেন্দ্র: দেবী কল্যাণেশ্বরীকে নিবেদিত, যাঁকে স্থানীয়রা মা দুর্গার স্থানীয় রূপে মনে করেন।
ট্রেকিং সহ স্নান স্বর্গ: পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিক ঝর্ণা থেকে প্রাপ্ত জল পবিত্র মনে করা হয়।
কি দেখবেন?
মন্দির কমপ্লেক্স: প্রধান মন্দিরের পাশাপাশি লিঙ্গ বা গণেশ মূর্তির ক্ষুদ্র মন্দির।
নবরাত্রি উৎসব: দশ রাত ধরে স্থাপিত দূর্গাপূজো অনুষ্ঠান, পুরোহিতদের আবির্ভাব, নৌকা উৎসব।
দৃশ্যাবলী: মন্দিরের সামনের জায়গা থেকে স্নিগ্ধ সিলেট হ্রদের মতো খেলার মাঠ দেখা যায়।
ভ্রমণ–পরামর্শ
ড্রেসকোড: সংযত পায়জামা বা ছোট পাঞ্জাবি নির্বাচন করুন।
সকালবেলার ভ্রমণ: সকাল ৫টা–৭টার মধ্যে পৌঁছাতে পারলে পরিবেশে স্নিগ্ধতা, ভিড় থাকে তুলনামূলক কম।
পুজো আইটেম: পুজো করতে গেলে স্থানীয় দুধ, ফুল, মিষ্টি কেনার জন্য সকাল সকাল পৌঁছানো ভালো।
5. Spandan Recreation Park – The Activity Central
কেন বিশেষ?
মুখর বিনোদন কেন্দ্র: হাঁসতবাসার খেলনা–ঝুলন্ত মালা থেকে শুরু করে বড় উইল–হুইল, রোলার কোস্টার, রোলিং ভূম, বাম্পার কার, বাচ্চাদের ছোট্ট ট্রেনে ভ্রমণ—সবই এক ছাদের নিচে।
ওয়াটার পার্ক: সুইমিং পুল, জলের স্লাইড, ফ্যামিলি ও শিশুদের আলাদা শাওয়াররুম—সবই সংযোজিত।
কি দেখবেন?
থ্রিল রাইডস: রং–বেরঙের লাইট সহ রোলার কোস্টারে উঠতে পারেন যদি অ্যাড্রেনালিন রোমাঞ্চ চান।
ফ্যামিলি ভ্যালু এলাকা: খোলা বাগান, বারবিকিউ স্পট, বেবি রাইডস।
খাবার コর্নার: মধ্যম বাজেটের ফুড কোর্ট, স্থানীয় নাস্তামুন্ডা, বেড়েরা চা–স্ন্যাক্স।
ভ্রমণ–পরামর্শ
সুবিধা:
লকার রুমে মূল্যবান জিনিস রাখা সুবিধাজনক।
শিশুদের জন্য স্ট্রলার ভাড়া করা যায়।
ওয়াটার পার্কের জন্য প্রস্তুতি:
নিজের সাঁতার কস্টিউম, তোয়ালে, স্যান্ডেল নিয়ে আসুন।
সানস্ক্রিন এবং সানগ্লাস অবশ্যই রাখবেন (বিকেলে ও সকালের আলোতে)।
দিনের সূচনা: সকাল ১০টা–১১টার মধ্যে ঢুকুন, যাতে সমস্ত রাইড উপভোগ করতে পারেন এবং বিকেলে বেরিয়ে পড়ার আগে শুকনো হতে পারেন।
6. SVF Cinemas – For the Cinema Lovers
কেন বিশেষ?
আধুনিক ও আরামদায়ক: আসানসোলে অন্যতম বৃহৎ মাল্টিপ্লেক্স, উচ্চমানের সাউন্ড সিস্টেম ও ৩ডি প্রদর্শনী সুবিধা।
আন্তর্জাতিক ও প্রাদেশিক চলচ্চিত্র: বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি—প্রায় সব ভাষার প্রথম রিলিজ দেখতে এখানে আসতে পারেন।
কি দেখবেন?
প্রিমিয়াম হল: বড় স্ক্রিনে আলাদা ভিআইপি সিটিং এর ব্যবস্থা।
কনসেশন স্ট্যান্ড: বিস্কুট, পপকর্ন, কোল্ড ড্রিঙ্কস, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স।
প্রিমিয়ার নাইট/ইভেন্ট: মাঝে মধ্যে নতুন ছবির প্রিমিয়ার বা ফ্যান মিট–আয়ন আয়োজিত হয়, সেক্ষেত্রে হল ভাড়া নেওয়া যায়।
ভ্রমণ–পরামর্শ
অনলাইন বুকিং: উৎসব বা ছুটি օրগুলোতে পূর্বেই বুকিং করে নেওয়া সবচেয়ে সহজ।
বিশেষ ছাড় ও অফার: কিছু অফ–সিজনে অফার প্যাকেজ থাকে—বিয়ের গোছ বা গ্রুপ বুকিংয়ে ডিল পান।
পার্কিং: মাল্টিপ্লেক্স সংলগ্নে বড় পার্কিং এলাকা; তবে বিকেলে ভিড় হয়, তাই শো টাইমের আগে পৌঁছুন।
আসানসোলের এই ছয়টি দর্শনীয় স্থান–সুসুশোভিত মিউজিয়াম, মনোরম পাহাড়, শান্ত সরোবর, পূজাপারায়ণ মন্দির, উচ্ছ্বাসময় পার্ক, আর আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স—সব মিলিয়ে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা গড়ে তুলে। আপনার আগ্রহ অনুসারে পরিকল্পনা করে, ভারী ভিড় এড়িয়ে, আগে থেকেই টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা সেরে নিন। আপনার পরিবার, বন্ধু বা সঙ্গীর সঙ্গে আসানসোলের এই আকর্ষণ গুলো ঘুরে দেখুন—নিশ্চিতভাবে একটা স্মরণীয় যাত্রার জন্ম হবে!
